দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লায় আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. সোহাগ (৩৪), ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) ও মো. সুজন (৩২)। তাঁরা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাঁদের ‘ভাসমান আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বুলেট বৈরাগী
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। পথে কুমিল্লার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন তিনি।
পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বুলেট বৈরাগীকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাঁর মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া হলে মাথায় আঘাত পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের দাবি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বুলেট বৈরাগীর মা লিলিমা বৈরাগী জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানিয়েছে। ছেলেকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযোগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।
এমএস/